বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্য বিজ্ঞানী।


0
16 shares

আপনি যদি বিজ্ঞান সম্পর্কে কিছু জেনে থাকেন তাহলে এটা নিশ্চয়ই জানবেন কোন ব্যাপারে বিজ্ঞান তখনই বিশ্বাস করে নেয়, যখন এর সঠিক প্রমাণ দেওয়া হয়। বিজ্ঞানীরা নিজেদের এক্সপেরিমেন্টের জন্য অনেক পরিশ্রম করে থাকে। তাদের বছরের-পর-বছর পরিশ্রমের প্রমাণ করার জন্য তারা বিভিন্ন ধরনের এক্সপেরিমেন্ট করে থাকে। আপনি কি জানেন? কয়েকজন বিজ্ঞানী এমন কিছু এক্সপেরিমেন্ট করেছে যেগুলো আমাদের সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে একেবারে অনৈতিক।

তারপরেও বিজ্ঞানীরা এগুলো করেছিল। এগুলো এমন কিছু এক্সপেরিমেন্ট ছিল, যেগুলো আপনি জঘন্য বলতে পারেন। এমন সব এক্সপেরিমেন্ট করার ফলে ওই সকল বিজ্ঞানীকে সরকার জেলে পাঠাতে সময় নেননি। আর এমন সব এক্সপেরিমেন্ট করা বিজ্ঞানী কে আপনি পাগল বিজ্ঞানীও বলতে পারেন, কিন্তু তাদের করা এসব এক্সপেরিমেন্টের জন্য আপনি নতুন কিছু অবশ্যই জানতে পারবেন। সর্বপ্রথম বলব ১৯০৭ সালের একটি অদ্ভুত এক্সপেরিমেন্ট সম্পর্কে, যেটি পরিচালনা করেছিল একজন বিজ্ঞানী যার নাম হচ্ছে dr. duncan macdougall

dr. duncan macdougall

এ বিজ্ঞানী আত্মার ওজন মাপার চেষ্টা করেন, সত্যি এটি অনেক অদ্ভুত মনে হয়। এই এক্সপেরিমেন্টে এমনই কিছু ছিল। সে এক্সপেরিমেন্ট করার জন্য ৬ জন রোগীকে নির্ধারণ করে। তাদের মৃত্যু খুব দ্রুতই হয়ে যাওয়ার কথা, তাদের মৃত্যুর একটু আগেই তাদের ওজন মাপা মেশিনে তাদের ওজন মেপে রাখা হয়, যাতে রোগীদের মৃত্যুর আগের ওজন জানা যায় এবং মৃত্যুর পরের ওজনের সাথে কম্পেয়ার করে আত্মার ওজনের ধারণ করা যায়।

আমরা সবাই জানি মৃত্যুর পর আত্মা মানুষের শরীর থেকে বের হয়ে যায়, সে সময় ওজন মাপতে চেয়েছিল এই পাগলা বিজ্ঞানী। এক এক করে সব লোকের উপরে তার এক্সপেরিমেন্ট চালিয়ে যায়। প্রথম রোগির ক্ষেত্রে ২১ গ্রাম ওজন কম লক্ষ্য করা যায়। দ্বিতীয় জনের মৃত্যুর পর ওজন কমে ছিল ঠিকই কিন্তু কিছু সময় পরে দেখা যায় ওজন আবার আগের মত হয়ে গেছে। তারপরের দুজন রোগীর ক্ষেত্রে ওজন কম লক্ষ্য করা যায় কিন্তু কিছু মিনিট পর দেখা যায় তাদের ওজন আগের চাইতে ওজন অনেক বেশি বেড়ে গেছে। তারপর সর্বশেষ জাতি জার এক্সপেরিমেন্ট করা হয়েছিল তার ওজনে তেমন কোনো তারতম্য দেখা যায়নি, কিন্তু তার এক মিনিট পরেই ২৮ গ্রাম কমে যায় প্রত্যেক ব্যক্তির ওজন আলাদা আলাদা হওয়ার ফলে এটি প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি যে আত্মার ওজন আসলে কত।

এখানে বৈজ্ঞানিক যে ফলাফল পাওয়া যায় সেটি হচ্ছে , মৃত্যুর পরে মানুষের শারীরিক পরিবর্তনের ফলে ওজনের তারতম্য তা দেখা দেয়। এর ফলাফল যখন সরকারের কাছে পৌঁছায় তারপর সরকার এই এক্সপেরিমেন্টের উপর ব্যান্ড লাগিয়ে দেয়, কারণ একটি মানবাধিকার লংঘন করে।

এরকম আরেকটি এক্সপেরিমেন্ট ১৯৩৪ সালে হয়েছিলো যেখানে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করার চেষ্টা করা হয়। এই এক্সপেরিমেন্টটি আমেরিকাতে করার চেষ্টা করা হয়েছিল, এই এক্সপেরিমেন্টি করেছিল একজন জনপ্রিয় ডক্টর রোবট ই কার্নিশ। সে মনে করত মৃতের শরীরে যদি রক্ত সঞ্চালন করা চালু করা যায় তাহলে মৃত্যু ব্যক্তিকে পুনরায় জীবিত করা সম্ভব হবে।

কারণ যখন মানুষের মৃত্যু হয় তখন রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়, এই এক্সপেরিমেন্টের জন্য সে কিছু মৃত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে, তারপরে অ্যাড ভলিং নামে একটি কেমিক্যাল দিয়ে ইনজেকশন করে দেয় যার ফলে রক্ত পাতলা হয়ে যায়, এবং খুব দ্রুত শরীরের রক্ত প্রবাহ চালু হয়ে তারপর একটা বেডে একটা মৃত ব্যক্তিকে লম্বা করে শুইয়ে দেওয়া হয় এবং বিছানাকে উপর নিচ করা শুরু করে দেওয়া হয়। কারণ যাতে শরীরের রক্ত প্রবাহ দ্রুত শুরু হয় কিন্তু তারপরও মৃত ব্যক্তির পুনরায় জীবিত হচ্ছিল না।

তারপর সে এর প্রয়োগ একটি কুকুরের উপর করেছিল কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে পাঁচটি কুকুরের মধ্যে দুইটি কুকুর জীবিত হয়ে যায় তিনটি কুকুর জীবিত হয়নি। এই এক্সপেরিমেন্ট কে সে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিল কিন্তু আমেরিকার সরকার এরকম এক্সপেরিমেন্টের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

কারন মৃত্যু ব্যক্তির উপর এক্সপেরিমেন্ট করা সামাজিক দৃষ্টি গুন থেকে একেবারেই অনৈতিক, কিন্তু তার কিছু বছর পর ১৯৪০ সালে এরকম একটি এক্সপেরিমেন্ট করা হয় রাশিয়াতে, যেখানে একটি কুকুরের মাথাকে জীবিত রাখার চেষ্টা করে। এই এক্সপেরিমেন্ট করার জন্য কুকুরের শরীর থেকে মাথাকে আলাদা করা হয়। মাথা কে জীবিত রাখার জন্য একটি মেশিনের সাহায্যে রক্ত প্রবাহ চালু করা হয়, রক্তপ্রবাহ চালু হওয়ার পর কুকুরের মধ্যে কিছু পরিবর্তন দেখা যায়, যেমন শব্দের পরিবর্তে কান নাড়াচাড়া করা, চোখের মধ্যে আল পড়লে চোখ নাড়াচাড়া করা, জিভ দিয়ে নাক চাটা, এই এক্সপেরিমেন্টের আসল ফুটেজ আপনি ইউটিউব এ ও পাবেন, কিন্তু এটি অনেক বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে, আর এসব এক্সপেরিমেন্টের উপর লাইফটাইম নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

কারণ এটিকে এনিমেল এভিউজ মনে করা হয়, সভ্যতা হিসেবে জীবন ও মরণ প্রাকৃতিক একটি নিয়ম। মৃত কোন জিনিসকে জীবিত করার চেষ্টা করা মানে প্রাকৃতিক এর সাথে তামাশা করা।

এরপর ১৯৬৩ সালে একটি বিজ্ঞানী ছিলেন যার নাম stanley milgram, সে মানুষের মালিকের আদেশ-নির্দেশ মান্য কারার পরিমাপ করতে চেয়েছিল। সে জানতে চেয়েছিল হিটলারের আদেশে তার সহযোগীরা বছরের পর বছর মানুষকে নিষ্ঠুরের মতো মানুষকে অত্যাচার করেছে। এই এক্সপেরিমেন্ট একটি সাইকোলজিকাল এক্সপেরিমেন্ট ছিল, এখানে সাধারণত দুটি কক্ষে দুইটি মানুষকে রাখা হয়েছিল সেখানে একটি শিক্ষক এবং একটি শ্রবণকারী ব্যক্তি ছিল, কক্ষটি এমন ছিল যে দুজন ব্যক্তি একে অপরকে শুনতে পারত কিন্তু দেখতে পেত না।

stanley milgram

এক্সপেরিমেন্টের শিক্ষক সেখানে থাকা দুজন ওকে কিছু জিজ্ঞেস করার কথা ছিল প্রত্যেকটি ভুল উত্তরের জন্য তাদেরকে বিদ্যুতিক সক হতো, এখান থেকে ফলাফল আসে যে কোন ব্যক্তি তার মালিকের কথা এমনভাবে মান্য করে যাতে সে তার বসের কোন কথায় সে রাগান্নিত না হয়। এ ব্যবহারে সত্যিই খুব প্রভাব পড়ে তারা বসকে ভয় পেয়ে এমন কিছু করে ফেলে যা তাদের করা উচিত নয়।

এই এক্সপেরিমেন্টের ফলে লোকজন সে বিজ্ঞানী কে নিয়ে অনেক সমালোচনা করে, এবং এমন এক্সপেরিমেন্ট কে বন্ধ করার কথা বলা হয় এমন এক্সপেরিমেন্ট অনৈতিক ঘোষণা করা হয়।

এই এক্সপেরিমেন্ট এর কয়েক বছর আগে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সময় যখন হিটলার অনেক কঠিন আইন জারি করেছিল। সেই সময় জার্মানির একজন বিজ্ঞানী Josef Mengele এর ভয়ানক একটি এক্সপেরিমেন্ট সবার সামনে আসে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হাজার-হাজার এক্সপেরিমেন্ট করা হয়েছিলো। এই সব করার এক্সপেরিমেন্ট একমাত্র কারণ হচ্ছে হিটলারের সকল কাজ করতে যেন সুবিধা হয়। ওষুধ ও চিকিৎসার জন্য সবার লিডার ছিল জোসেফ মেঙ্গলি, যাকে এঞ্জেল অফ ডেড বলা হত।

Josef Mengele

যখন বাচ্চারা ডক্টর Josef Mengele এর কাছে আসতো তখন সে সবার দিকে ভয়ঙ্করভাবে তাকাতো এবং দেখতো সেখানে কোন জমজ বাচ্চা আছে কিনা, কারণ সে জমজ বাচ্চার জন্য পাগল ছিল, কারণ সে জমজ বাচ্চাদের একসাথে জোড়া লাগানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের এক্সপেরিমেন্ট করছিলো।

যেটি করার সময় যমজ বাচ্চাদের গাংরেন নামের রোগ হতো এবং তারা ভয়ঙ্কর ভাবে মৃত্যুবরণ করত। জোসিফ এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের এক্সপেরিমেন্ট করেছে যেমন, লোকজনকে পেশার চেম্বারে রেখে দেওয়, তাদের বরফের মধ্যে জমিয়ে মেরে ফেলা, অভ্যন্তরীন অঙ্গগুলোকে শরীর থেকে আলাদা করা, লিঙ্গ বদল করা, এসকল এক্সপেরিমেন্টের কথা শুনে যে কারো শরীরের লোম দাঁড়িয়ে যেতে বাধ্য।

প্রিয় রিডার, এই সকল এক্সপেরিমেন্টের মধ্যে কোন এক্সপেরিমেন্ট আপনাদের কাছে বেশি অনৈতিক বলে মনে হয়েছে। কমেন্ট করে জানাবেন। ধন্যবাদ।


Like it? Share with your friends!

0
16 shares

What's Your Reaction?

hate hate
0
hate
confused confused
0
confused
fail fail
0
fail
fun fun
0
fun
geeky geeky
0
geeky
love love
1
love
lol lol
0
lol
omg omg
0
omg
win win
0
win
nmigo

0 Comments

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Choose A Format
Personality quiz
Series of questions that intends to reveal something about the personality
Trivia quiz
Series of questions with right and wrong answers that intends to check knowledge
Poll
Voting to make decisions or determine opinions
Story
Formatted Text with Embeds and Visuals
List
The Classic Internet Listicles
Countdown
The Classic Internet Countdowns
Open List
Submit your own item and vote up for the best submission
Ranked List
Upvote or downvote to decide the best list item
Meme
Upload your own images to make custom memes
Video
Youtube, Vimeo or Vine Embeds
Audio
Soundcloud or Mixcloud Embeds
Image
Photo or GIF
Gif
GIF format