কেনো পৃথিবীর কোন জেল এই ব্যাক্তিকে আটকে রাখতে পারিনি!


1
11 shares, 1 point

আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মুভিতে, ওয়েব সিরিজে দেখে থাকি কয়েদিরা বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে জেল থেকে পালিয়ে যায়, কিন্তু বাস্তবে জেল থেকে পালানো এভাবে সম্ভব নয়, কারণ বাস্তবের জেলগুলো অনেক সুরক্ষিত থাকে। আর কিছু কিছু জেল স্পেশালি নির্মাণ করা হয় যাতে সেই জেল থেকে পালানো কোনোভাবেই সম্ভব না হয়।

কিন্তু আজ আমরা জানাতে যাচ্ছি এমনই কিছু জেল এর কথা যেই জেল থেকে কয়েদিরা এমন কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করে পালিয়ে গিয়েছিল যা শুনলে বিশ্বাসই করতে পারবেন না। আপনাদের হয়তো জানা আছে এ্যালকাডাস এমন একটি জেল যা পৃথিবীতে যত জেলা আছে তার মধ্যে অন্যতম দুর্গম জায়গায় অবস্থিত একটি জেল। এই দুর্গম জায়গায় অবস্থিত একটি জেলের বিশেষত্ব আজ আপনাদেরকে বলে দিচ্ছি।বিভিন্ন কয়দি এই জেল থেকে পালোনোর জন্য বহুবার চেষ্টা করেছে কিন্তু তারা চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছিল কিন্তু বলা হয়ে থাকে ১৯৬২ সালে এই জেল থেকে একজন পালিয়ে গিয়েছিল। আর সেই ব্যাক্তির জেল পালোনো পদ্ধতি সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল।

সেই কয়দির ইতিহাস বলার আগে এই জেল সম্পর্কে আপনাদের কিছুটা ধারণা দেই। এই জেলটিকে নির্মাণ করা হয়েছিল ১৯৩৪ সালে আর এটিকে পুরোপুরি ভাবে বন্ধ করা হয়েছে ১৯৬৩ সালে। আপনারা জানলে অবাক হবেন এই জেলটিকে পুরো একটি দ্বীপে তৈরি করা হয়েছিল। এই দ্বীপটির অবস্থান সানফ্রান্সিসকো ক্যালিফোর্নিয়ায়, এই জেল থেকে সমুদ্রতীরের অবস্থান তিন কিলোমিটার দূরে।

যদিও কোন সময় কোন কয়দি এই জেল থেকে পালানোর জন্য জেলের বাইরে চলে যায় তবুও সে এই পানির জন্য পালাতে পারতো না। আর এজন্যই এই জেলটি নির্মাণ করা হয়েছিল একটি দ্বীপে, যাতে করে কোন কয়দি পালাতে না পারে। আর এটা এতটাই সুরক্ষিত জেল যে পৃথিবীর সব থেকে বিখ্যাত জাদুকর হুডেনিউ এই জেল থেকে পালাতে ব্যর্থ হয়েছিল।

কিন্তু বলা থাকে ফ্রানক মরিস নামক কয়েদি এই জেল থেকে পালাতে সক্ষম হয়েছিল। বলা হয়ে থাকে এই ব্যক্তির আইকিউ লেভেল পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের মধ্যে অন্যতম ছিলো। আসুন জানি কিভাবে সে জেল থেকে পালিয়েছিলো।

প্রথমে সে জেলে থাকা অবস্তায় জেলের ব্যাক্তি কয়েদির মধ্যে দুজনকে তার বন্ধু বানায় তাদের দুজনের নাম জন এবং ফ্লেরান্স, ফ্রানক তার দুই বন্ধুর সাথে পালানোর সমস্ত রকম পরিকল্পনা শেয়ার করার পর তারা রাজি হয়।

তারপর তারা লক্ষ করে দেয়ালের উপরে ৩ ফুট প্রস্থ বিশিষ্ট একটি জানালা রয়েছে, তাঁরা তিনজন অনেক কষ্টে একটি ড্রিলবিত জোগাড় করে, তারপরে তারা একটি নষ্ট ভ্যাকুয়াম ক্লিনার জোগাড় করে।

এই নষ্ট জিনিসপত্র তাদের বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তারা একটি ড্রিল মেশিন বানিয়ে ফেলে। অনেক সময় নিয়ে তারা এগুলো করেছিল তাই এটি করতে তাদের ৬ মাসের মত সময় লেগেছিল। তারপর তারা সেই ড্রিল দিয়ে তাদের সেলের দেয়াল ছিদ্র করতে শুরু করে দেয়, তবে এই কাজে তাদের প্রধান ঝুঁকি ছিল ড্রিল মেশিনের শব্দ। তবে তারা আগে থেকেই দারুন একটি পরিকল্পনা করে ফেলে।

এই জেলে প্রতিদিন কিছু নির্দিষ্ট সময়ে পিয়ানো বাজিয়ে কয়েদিরা মনোরঞ্জন করতেন আর তারা প্রতিদিন তাদের দেয়াল ছিদ্রর কাজ ঠিক সেই সময়ে করতো। প্রতিদিন একটু একটু করে ছিদ্র করতো এবং বাকি সময় কাপড় দিয়ে সেই জায়গাটা ঢেকে রাখত। তারা আরও একটি দারুন কাজ করেছিল, তারা তাদের ছেড়া জামা কাপড় দিয়ে এবং আরো কিছু জিনিসপত্র সংগ্রহ করে ৪ টি আলাদা আলাদা মুখোশ বানিয়েছিল। তারপর তারা এক জেল কর্তৃপক্ষের রেইনকোট চুরি করে আর সেই রেইনকোটকে সম্বল করে ১৯৬২ সালের এক রাতে ফ্রানক এবং তার এক বন্ধুকে নিয়ে জেল থেকে পালিয়ে যায়।

কারণ জেল থেকে পালানোর সময় সেই ছিদ্র দিয়ে কেবল মাত্র ফ্রানক আর সেই দুজনের মধ্যে একজনকে বের হতে পেরেছিল আর তৃতীয় জন বের হতে পারে নাই। তাই তাকে সেখানেই রেখে তাদের দুজনকে পালিয়ে যেতে হয়। তারা জেলের প্রাচীর টপকানোর পর সেই রেইনকোট হাওয়া দিয়ে ফুলিয়ে পানিতে ভাসিয়ে পালিয়ে যায়। তারা এই কাজন এতটাই দক্ষভাবে করেছিল যে কাক পক্ষিও টের পায় নাই।

তাদের সেল থেকে ছিদ্র বের হওয়া যাতে বুঝতে না পারে সেই জন্য এই দেওয়ালের রঙ্গের একটি বোর্ড ও সংগ্রহ করে কিন্তু সেই বোর্ড দিয়ে দেওয়ালের মত করতে তাদের প্রচুর পরিমান গ্লুর প্রয়োজন পরে কিন্ত তারা পর্যাপ্ত গ্লু না পেয়ে জেলের কনস্ট্রাকশন কাজ চলাকালীন সময় বেশ কিছু সিমেন্ট বালির মিশ্রন চুরি করে আর সেগুলা দিয়ে তারা ফেইক দেওয়াল এর পরিবর্তে রিয়েল দেওয়াল তৈরি করে ফেলে।

আর এজন্যই তাদের পালানো অনেক কঠিন হয়ে পরে। তাদের পালানো এতটাই কঠিন হয়ে পরেছিল যে তাদের একজন বন্ধুকে রেখেই তাদের দুজনকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল। কেউ কেউ বলে সেই দুজন কয়েদি মাঝ সমুদ্রে ডুবে মারা গিয়েছিল। আবার কারো কারো মতে তারা ব্রাজিলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল।

ইউসি শশীতিরাঃ

এই দুর্ধর্ষ ব্যক্তিকে কোন জেলে আটকে রাখা সম্ভব নয়। এই ব্যক্তিকে জেলে বন্দী করে রাখা তাদের যতটা কঠিন, হয়েছিল তা পৃথিবীর অন্য কোন ব্যক্তিকে জেলে বন্দী করে রাখাটা এতটা কঠিন ছিল না। এই ব্যক্তি সেই সময় জাপানে অবস্থান করছিল। মানুষ তাকে জাদুকর ভাবত।

তখন জাপানের জেল পালানো অনেক সহজ ব্যাপার ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে জাপানের জেল গুলোকে অনেক সুরক্ষিত করে ফেলা হয়। আর কয়দিনের মধ্যে সেই সময় জেল পালানো অনেক কঠিন হয়ে ওঠে।সেই সময় এই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয় চুরি এবং খুনের দায়ে। গ্রেফতার এর পরে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।

জেলে বন্দি থাকা তিন বছর পর সে তার হাত করার চাবি চুরি করে হাতকড়া খুলে পালিয়ে যায় কিন্তু পুলিশ তাকে আবার গ্রেফতার করে পরবর্তীতে তাকে আবার একটি জেলে আটকে রাখা হয়। সেই জেল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল যে সে এই জেল থেকে পালাতে পারবে না।

কিন্তু জেলের একটি জায়গাতে একটি ইয়ার বল্ড লাগানো রয়েছে আর সে প্রতিদিন এই জায়গায় উঠে একটি সিসা বের করার চেষ্টা করতে থাকে। অনেকদিন চেষ্টা করার পর সে একটি সিসা বের করতে সক্ষম হয়ে যায়, আর সিসা বের করার ফলে সেই ছাদের প্রায় প্রতিটি সিসা ই ডিলা হয়ে যায়। আর সে আবার এখান দিয়ে রাতে পালিয়ে যায়।

দুইবার জেল পালানোর পরও এই ব্যক্তি আবার পুলিশের হাতে ধরা পরে যায়। আবার তাকে একটি নতুন জেলে বন্দী করে রাখা হয়। এই জেল পালানো ছিল আরও কঠিন কিন্তু এই জেলেও তাকে আটকে রাখা সম্ভব হয়েছিল না। সেই জেলে তাকে প্রতিদিন সুপ খেতে দেয়া হতো, আর সেই সুপ না খেয়ে জেলের দরজার উপর ফেলে দিত আর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সেই দরজায় মরিচা পড়ে যায়।

তার কিছুদিন পরেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে যায় আর তখন বিশ্বযুদ্ধের কারণে পুরো জাপান ব্লক আউট হয়ে গিয়েছিল। আর শসি তখন সে দরজা ভেঙ্গে আবার পালিয়ে গিয়েছিল। পুলিশ তাকে আবারও গ্রেপ্তার করেছিল, তাকে এবার এমন একটি জেলে রাখা হয়েছিল যেখানে ৬টা গার্ড শুধুমাত্র শশী কে পাহারা দেয়ার জন্য।

আর জেল কর্তৃপক্ষের ৬জন পাহারাদার রেখে ওভার কনফিডেন্স ছিল, তারা ভেবেছিল শশী এখান থেকে কোনভাবেই পালাতে পারবে না কিন্তু শশীকে যে সেলে রাখা হয়েছিল সেই ছেলের জানালা ভাঙ্গাছিল কিন্তু জেল কর্তৃপক্ষ সেদিকে নজর দেয় নাই। কারণ তারা ভেবেছিল তাকে পাহারা দেয়ার জন্য ৬ জন ত রাখাই আছে আর এটাই যথেষ্ট।

কিন্তু শশী আবার একদিন তার বুদ্ধিমত্তা পরিচয় দিয়ে তাদের সবাইকে ফাঁকি দিয়ে চতুর্থবারের মত পালিয়ে যায়।

লেখাগুলা যদি আপনাদের ভালো লাগে তাহলে শেয়ার করতে ভুলবেন না।


Like it? Share with your friends!

1
11 shares, 1 point

What's Your Reaction?

hate hate
0
hate
confused confused
0
confused
fail fail
0
fail
fun fun
0
fun
geeky geeky
0
geeky
love love
2
love
lol lol
0
lol
omg omg
0
omg
win win
0
win
nmigo

0 Comments

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Choose A Format
Personality quiz
Series of questions that intends to reveal something about the personality
Trivia quiz
Series of questions with right and wrong answers that intends to check knowledge
Poll
Voting to make decisions or determine opinions
Story
Formatted Text with Embeds and Visuals
List
The Classic Internet Listicles
Countdown
The Classic Internet Countdowns
Open List
Submit your own item and vote up for the best submission
Ranked List
Upvote or downvote to decide the best list item
Meme
Upload your own images to make custom memes
Video
Youtube, Vimeo or Vine Embeds
Audio
Soundcloud or Mixcloud Embeds
Image
Photo or GIF
Gif
GIF format